নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের উপর হামলার ঘটনায় এ বার রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছে রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে ডিজি-কে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে ওই রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, মুরুগানের সফরসূচি আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট মহকুমাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছিল। তার পরেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। শেষমেশ পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ছাড়াই সংবেদনশীল এলাকায় যেতে বাধ্য হন ওই পর্যবেক্ষক। তার জেরেই পর্যবেক্ষককে ঘিরে স্লোগান দেওয়া, অবৈধ জমায়েত এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। তাঁর গাড়িরও ক্ষতি করা হয়। এই সব ঘটনা পুলিশ প্রশাসনের গুরুতর গাফিলতির দিকে ইঙ্গিত করে বলে জানিয়েছে কমিশন।
ঘটনাটি একাধিক বার নজরে আনার পর ৩০–৪০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এ ছাড়া আর কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে কমিশন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে। কমিশনের আরও নির্দেশ, ভবিষ্যতে যখনই কোনও পর্যবেক্ষক বা বিশেষ পর্যবেক্ষক এলাকায় যাবেন, তখন তাঁর সঙ্গে অবশ্যই পুলিশের এক জন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করতে হবে, যাতে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এসআইআর পর্বে এই সব নির্দেশ কঠোর ভাবে পালন করতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
গত ২৮ নভেম্বর সি মুরুগানকে পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করেছিল কমিশন। দক্ষিণ কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। সেই মতো দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন ওই পর্যবেক্ষক। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়েরা। এ নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর কমিশনকে চিঠি পাঠিয়ে মুরুগান জানান, ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অন্তর্গত মগরাহাট–১, মগরাহাট–২ এবং কুলপি ব্লকে পরিদর্শনে যাওয়ার সময় তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। হামলাও চালানো হয় তাঁর উপর।

