আরাবল্লী (Aravalli Hills) নিয়ে সারা দেশ উত্তাল। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে (debate regarding Supreme Court’s verdict on Aravalli hill range)। আরাবল্লী আর নাকি পাহাড় নয়! কিংবা আর একটু স্পষ্ট করে বললে আরাবল্লীর ৯০ শতাংশই নাকি পাহাড় নয়! আর এই তকমা সত্য প্রতিষ্ঠিত হলে যে রক্ষাকবচ আরাবল্লী পায়, তা আর পাবে না। তাতে সবচেয়ে ক্ষতি হবে দিল্লি ও দিল্লির সংলগ্ন এলাকার। থর মরুভূমিকে (Thar Desert) সে আর আটকে রাখবে না।
কী ক্ষতি দিল্লির?
কী ক্ষতি হবে দিল্লির? লো-লাইয়িং হিল রেঞ্জ হিসেবে প্রসিদ্ধ আরাবল্লী দিল্লিকে নানা ভাবে রক্ষা করে। দিল্লি শহরের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা পায় ইন্দো-গ্যাঞ্জেটিক অঞ্চল। খুবই উর্বর এই অঞ্চল। এর উর্বরতাকে বলতে গেলে দুহাত দিয়ে রক্ষা করে আরাবল্লী।
আরাবল্লী-পরিচয়
হিমালয়ের থেকেও ৩২০ কোটি বছর পুরনো এই আরাবল্লী পর্বতমালা। ভাবা যায়! যেখানে তরুণ ভঙ্গিল পর্বতমালা হিমালয় এখনও অবিরত বাড়ছে, সেখানে আরাবল্লী পুরানো ভঙ্গিল পর্বতমালা হওয়ায় এর বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর নিচে পৃথিবীর ভূত্বকে ভূত্বকীয় পাতের চলাচল বন্ধ হওয়ার ফলে ঊর্ধ্বমুখী চাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। প্রাচীন ক্ষয়িষ্ণু এই পর্বত উত্তর ভারতের দিল্লি থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ হরিয়ানা পার হয়ে পশ্চিম ভারতের রাজস্থান রাজ্য পার হয়ে গুজরাতে গিয়ে শেষ হয়েছে।
আরাবল্লী কিন্তু কম নয়
মাউন্ট আবু আরাবল্লী পর্বতশ্রেণীর সর্বোচ্চ চূড়া– উচ্চতা ৫৬৫০ ফুট। প্রায় ৭০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত আরাবল্লী পর্বত ভারতের জন্য যুগ যুগ ধরে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক উপহার। এটি কোটি কোটি বছর ধরে নীরবে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আরাবল্লী যদি তার এই ভূমিকা না পালন করত, তবে, এতদিনে হয়তো দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ মরুভূমিতে পরিণত হয়ে যেত!
আর ‘পর্বত’ নয় আরাবল্লী
আজ এ হেন আরাবল্লীই বিপন্ন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক আরাবল্লী পর্বতের সংজ্ঞা বদলে দেয়। সে আর ‘পর্বত’ই নয়! কেননা, বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ নয়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০০ মিটার উচু যে শৃঙ্গগুলি, সেগুলিকেই পর্বত বলে গণ্য করা হবে। সুপ্রিম কোর্টও গত ২০ নভেম্বর সেই প্রস্তাবেই সম্মতি দেয়। তথ্য বলছে, আরাবল্লীর অধিকাংশ পর্বতশৃঙ্গেরই উচ্চতা ৩০ থেকে ৮০ মিটারের মধ্যে! তা হলে?
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট
এর পরই রাজস্থান জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমী– সর্বস্তরের মানুষজন প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, না-পর্বতের এই সিদ্ধান্ত আরাবল্লী পর্বত-সন্নিহিত পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে। কারণ, নতুন সংজ্ঞায় তো রাজস্থানের আরাবল্লী পর্বতের প্রায় ৯৩ শতাংশই বিপন্ন! এই পর্বতের অধিকাংশ রেঞ্জই তো এখন ১০০ মিটারের নীচে!

