8th Pay Commission BIG UPDATE: দারুণ খবর! অষ্টম পে কমিশনে প্রাপ্য় বাড়ছে প্রায় ৪০%!২০ হাজার টাকা স্যালারি হলে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে…

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী (Central Govt Employee) এবং পেনশনভোগীদের (Central govt pensioners) জন্য ২০২৬ সালের পয়লা জানুয়ারি একটি ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। নরেন্দ্র মোদী সরকার অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) কার্যকর করার পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। যদিও সুপারিশগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে এর আর্থিক সুবিধা ২০২৬ সালের শুরু থেকেই কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের শেষের দিকে বা ২০২৮ সালের গোড়া থেকে বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন তাঁরা। এই আবহে স্বাভাবিক ভাবেই উঠেছে একটি প্রশ্ন। কার্যকর থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সময়সীমার বর্ধিত বকেয়া বেতন কী ভাবে দেবে? এর আগে ২০১৬ সালে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করে কেন্দ্র। ওই বছরের জুলাইয়ে তা বাস্তবায়িত হয়েছিল। অর্থাৎ বছরের সপ্তম মাসে গিয়ে সংশোধিত বেতন এবং পেনশন হাতে পেয়েছিলেন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীরা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সে বার জানুয়ারি থেকে শুরু করে ছ’মাসের বকেয়া বর্ধিত বেতন কর্মীদের দিয়েছিল কেন্দ্র।

১. বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর

বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, অষ্টম বেতন কমিশন চালু হলে কেন্দ্রীয় কর্মীদের মূল বেতন এবং পেনশন ৩০ থেকে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বেসিক পে বা মূল বেতন সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ ১.৮৩ থেকে ২.৪৬, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে ৩.০ পর্যন্ত হতে পারে। যদি ন্যূনতম মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩০-৩২ হাজার টাকা হয়, তবে একজন সাধারণ কর্মীর মাসিক বেতন প্রায় ১১,৯০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

২. কার্যকর বনাম বাস্তবায়ন: বকেয়া বা এরিয়ার সুবিধা

অষ্টম বেতন কমিশন ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও এর বাস্তবায়ন হতে ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের শুরু হতে পারে। তবে কর্মীদের চিন্তার কারণ নেই। সপ্তম বেতন কমিশনের মতোই, সরকার কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সময়ের বর্ধিত বেতন ‘বকেয়া’ বা ‘এরিয়ার’ হিসেবে মিটিয়ে দেবে। অর্থাৎ, সুপারিশগুলি অনুমোদনে দেরি হলেও কর্মীরা ২০২৬-এর জানুয়ারি থেকেই বর্ধিত হারের সুবিধা পাবেন।

৩. ডিএ (DA) এবং পেনশনারদের অবস্থান

বর্তমানে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। কর্মীদের মনে প্রশ্ন ছিল যে ডিএ কি মূল বেতনের সাথে মিশে যাবে? সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমানে ডিএ বা ডিআর-কে মূল বেতনের সাথে যুক্ত করার কোনো প্রস্তাব নেই; এটি আলাদাভাবেই গণনা করা হবে। অন্যদিকে, দেশের প্রায় ৭০ লক্ষ পেনশনারও এই কমিশনের আওতায় আসছেন। নতুন বেতন কাঠামোর ভিত্তিতে তাঁদের পেনশন পুনরায় নির্ধারণ করা হবে, যা তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করবে।

৪. কমিশনের সময়সীমা ও বর্তমান অগ্রগতি

সরকার ২০২৫ সালের নভেম্বরে কমিশনের নিয়মাবলীতে অনুমোদন দিয়েছে এবং রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী সংসদে জানিয়েছেন যে, সুপারিশগুলো অনুমোদিত হলে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে। সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশন আসে, সেই প্রথা মেনে ২০২৬-ই হতে চলেছে পরিবর্তনের বছর।

৫. কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রায় প্রভাব

বেতন বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়া কেবল কর্মচারীদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ তুলে দেবে না, বরং মুদ্রাস্ফীতির বাজারে তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করবে। AICPI ইনডেক্সের ভিত্তিতে ডিএ গণনা অব্যাহত থাকবে, যা বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

অষ্টম বেতন কমিশন কেবল একটি বেতন কাঠামো সংশোধন নয়, বরং এটি কোটি কোটি পরিবারকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রদানের একটি অঙ্গীকার। যদিও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে হাতে টাকা পেতে কিছুটা দেরি হতে পারে, তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসটি কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের জন্য একটি ‘সেরা উপহার’ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.