বিয়ে এখন অতীত। সুরকার পলাশ মুচ্ছলকে নিয়েও আর কোনও কথা নয়। পলাশের সঙ্গে বিয়ে ভাঙার পর এই প্রথমে প্রকাশ্যে এলেন ক্রিকেটার স্মৃতি মন্ধানা। সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমার মনে হয় না, ক্রিকেটের থেকে বেশি আমি কিছু ভালবাসি’।
বিয়ে ভাঙার ধাক্কা সামলে ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন স্মৃতি। গত রবিবার বিয়ে বাতিলের কথা জানিয়েছিলেন তিনি নিজেই। এর সোমবার থেকে প্র্যাকটিসে নেমে পড়েন। আজ, বুধবার অ্যামাজ়ন সম্ভব সামিটে যোগ দেন ভারতের বিশ্বজয়ী এই ব্যাটার। সেই অনুষ্ঠানেই তিনি বলেন, ক্রিকেট তাঁর সবচেয়ে বড় ভালবাসা। ক্রিকেট তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে। স্মৃতির কথায়, ‘আমার মনে হয় না, ক্রিকেটের থেকে বেশি আমি কিছু ভালবাসি। ভারতের জার্সি পরে খেলা আমার কাছে সবচেয়ে গর্বের। ক্রিকেট আমার ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যাকেও দূরে সরিয়ে রাখে। জীবনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে’।
গত ২৩ নভেম্বর পলাশের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল মন্ধানার। বিয়ের আগে রীতিমাফিক হলদি, সঙ্গীত হয়েছিল ধুমধাম করেই। এরপর ছন্দপতন! যেদিন বিয়ে, সেদিন দুপুরেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ক্রিকেটারের বাবা। মান্ধানা পরিবারের তরফে জানানো হয়, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিয়ে স্থগিত। শেষপর্যন্ত অবশ্য বিয়ে ভেঙে গেল। প্রকাশ্যে আসে পলাশের একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের কথা।
এবার কি তাহলে ক্রিকেটেই মন দিলেন? স্মৃতি বলেন, ‘ছোট থেকেই ক্রিকেট পাগল ছিলাম। জানি কেউ বুঝবে না, কিন্তু তখন থেকেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। এত বছরের পরিশ্রমের ফসল এত দিনে পেয়েছি। আমি ভারতের জার্সি পরে ১২ বছর ধরে খেলছি। অনেক বার হতাশা দেখেছি। কিন্তু বিশ্বাস ছিল। শেষ পর্যন্ত জিতেছি’।
এর আগে, মঙ্গলবার ইনস্টগ্রামে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন স্মৃতি। যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটিতে স্মৃতিকে শান্তভাবে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ক্ষমতা নিয়ে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। এই পোস্টটি একটি জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডের জন্য একটি পেড প্রমোশন। ক্লিপটিতে স্মৃতি বলছেন, ‘আমি আমার শান্ত মনকে কথা বলতে দিই এবং আমার বিশ্বাসকে গুরুভার বহন করতে দিই’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘দায়িত্ব কোনো পদবী নয়, এটি একটি মানসিকতা।” স্মৃতি তাঁর ক্যাপশনে লিখেছেন, “আমার কাছে শান্ত থাকা মানে নীরবতা নয়, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা’।
৭ই ডিসেম্বর, স্মৃতি মান্ধানা প্রথমবারের মতো পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে তাঁর স্থগিত হওয়া বিবাহ নিয়ে নীরবতা ভাঙেন। স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে বিয়েটি বাতিল করা হয়েছে এবং এই সময় তিনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেন। লেখেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমার জীবন নিয়ে প্রচুর জল্পনা চলছে এবং আমার মনে হয় এই সময়ে মুখ খোলা দরকার। আমি অত্যন্ত ব্যক্তিগত জীবন যাপন করি এবং আমি এটি সেভাবেই রাখতে চাই। কিন্তু আমাকে স্পষ্ট করে দিতে হচ্ছে যে বিয়েটি বাতিল করা হয়েছে। আমি এই বিষয়টি এখানেই শেষ করতে চাই এবং আপনাদের সকলকেও একই কাজ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি অনুরোধ করছি, এই মুহূর্তে দয়া করে উভয় পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানান এবং আমাদের নিজেদের গতিতে বিষয়টি প্রক্রিয়াজাত করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিন।

)