বাংলায় বলুন, অসুবিধা নেই: লোকসভায় বাঙালি সাংসদের বাংলা প্রশ্নের উত্তরদাতা বাঙালি মন্ত্রীকে বললেন স্পিকার বিড়লা

দক্ষিণ ভারতীয় মন্ত্রী হিন্দিতে বক্তৃতা করায় তাঁর বুঝতে অসুবিধা হয়েছে বলে দিনকয়েক আগে লোকসভায় জানিয়েছিলেন বাঙালি সাংসদ। তা নিয়ে বিজেপি-তৃণমূলে একপ্রস্ত বাদানুবাদ হয়। সোমবার ঘটল কিছুটা উল্টো ঘটনা। বাঙালি সাংসদ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীকে প্রশ্ন করলেন বাংলায়। বাঙালি মন্ত্রী উঠে দাঁড়িয়ে বাংলায় উত্তর দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন। স্পিকার বললেন, ‘‘কোনও অসুবিধা নেই।’’

উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর প্রশ্ন ছিল পশ্চিমবঙ্গে ‘রাষ্ট্রীয় উচ্চতর শিক্ষা অভিযান’ (রুসা)-এর কাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের পূর্ণমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ওড়িশার নেতা। তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদে অনেক ক্ষেত্রেই জবাব দেন প্রতিমন্ত্রীরা। সোমবারও ধর্মেন্দ্রের বদলে জবাব দিচ্ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। খগেনের প্রশ্ন শেষ হতেই সুকান্ত উঠে দাঁড়িয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে বাংলায় উত্তর দেওয়ার অনুমতি চান। তিনি বলেন, যেহেতু প্রশ্নকর্তা সাংসদ বাংলায় প্রশ্নটি করেছেন এবং তাঁর নিজের মাতৃভাষাও বাংলা, সেহেতু তিনি বাংলায় উত্তর দেওয়ার অনুমতি চাইছেন। সুকান্তের বাক্যটি শেষ হওয়ার আগেই স্পিকার বলেন, ‘‘আপনি বাংলায় বলুন, কোনও অসুবিধা নেই।’’

খগেনের প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত লোকসভায় এ দিন জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রুসা-র প্রথম দুই ধাপে কেন্দ্রের সঙ্গেই কাজ করছিল। গোটা পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র ২০৬টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছিল, যার মোট ব্যয় ৯০৩.৪৫ কোটি টাকা। সুকান্ত জানান, তাতে কেন্দ্রের অংশীদারি ছিল ৫৪৫.৬৫ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৩৮৫ কোটি টাকা কেন্দ্র দিয়েও দিয়েছে। কিন্তু ৬১টি প্রকল্পের কাজ এখনও পর্যন্ত শেষ হয়েছে, ১৪৫টি প্রকল্প এখনও অসম্পূর্ণ। সুকান্ত লোকসভায় বলেন, ‘‘আমি ২০২৫ সালের ৩০ অগস্ট পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি লিখে বলেছি যে, তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করুন। কিন্তু কাজ শেষ তো হচ্ছেই না। এমনকি আমাদের পরিবর্তিত পিএম রুসা প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গ অংশগ্রহণ করছে না। তার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি বঞ্চিত হচ্ছে।’’

কয়েক দিন আগে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন হিন্দিতে বক্তৃতা করায় তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছিলেন যে, তাঁর বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। সৌগতের দাবি মানতে রাজি হননি নির্মলা। সংসদে যে কোনও ভাষার বক্তব্যই নিজের পছন্দমতো ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ করে শোনার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই হিন্দি বুঝতে অসুবিধা হলে সৌগত নিজের পছন্দের ভাষায় সেই ভাষণের অনুবাদ শুনে নিতে পারতেন বলে নির্মলা মনে করিয়ে দেন। সোমবার অবশ্য প্রশ্নকর্তা সাংসদ যে ভাষায় প্রশ্ন করলেন, মন্ত্রীকেও সেই ভাষাতেই উত্তর দিতে দেখা গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.