East Bengal vs FC Goa: টাইব্রেকারে খেতাব হাতছাড়া ইস্টবেঙ্গলের, সুপার কাপ ছিনিয়ে নিল এফসি গোয়া…

কার্লেস কুয়াদ্রাত পেরেছিলেন, অস্কার ব্রুজোঁ পারলেন না। ২০২৪ সালের স্মৃতি ফিরল না ২০২৫ সালে। রবিবাসরীয় সুপার কাপ ফাইনালে হেরেই গেল ইস্টবেঙ্গল। গোয়ার তীরে তরী ডুবল মশালবাহিনীর। সাডেন ডেথে ৬-৫ জিতল এফসি গোয়া!

প্রথমার্ধ

এদিন প্রথমার্ধে ১০ মিনিটের পর থেকেই দুই দলের খেলার ঝাঁজ উবে গিয়েছিল। ৫-৬টির বেশি ফরোয়ার্ড পাস খেলেও তা এক সুতোয় বাঁধতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল বা গোয়া কেউই। তবে লাল-হলুদের একাধিক গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল গোয়ার রক্ষণের ভুলেই। কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারেননি অস্কার ব্রুজোঁর টিম। সেমিফাইনালে পঞ্জাব ম্যাচে, লাল কার্ড দেখায় এদিন ডাগআউটে বসা হয়নি অস্কারের। তিনি ছিলেন ভিআইপি বক্সেই। অস্কারের বদলে দায়িত্বে ছিলেন সহকারি বিনো জর্জ। খেলার ২৬ মিনিটে গোয়া বড় ধাক্কা খায়। চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান ডিফেন্ডার রনি উইলসন। নিম ডোর্জে নামেন তাঁর বদলে। এর সঙ্গেই শুরুতে হলুদ কার্ড দেখা বরিস সিংকে উঠিয়ে উদান্তা সিংকে নিয়ে আসেন গোয়ার কোচ মানোলো মার্কেজ। প্রথমার্ধে ২ মিনিট ইনজুরি টাইম যোগ করেছিলেন রেফারি। তবে লাভের লাভ হয়নি। ৪৭ মিনিটেও খেলা ছিল গোলশূন্যই। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন বিপিন আর মহেশ। তাঁরাই বেশি নজর কেড়েছেন। প্রশংসা করতে হবে আনোয়ারও। তুলনামূলক ভাবে লাল-হলুদ আক্রমণ গোয়ার চেয়ে ভালো ছিল। এদিন পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে, ঘরের সমর্থকদের পেয়েও মার্কেজের টিম ছাপ রাখতে পারেনি সেভাবে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোয়া গিয়ার বদলে তেড়েফুঁড়ে খেলতে শুরু করে। আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ান মার্কেজ। শুরুর দু’মিনিটেই জোড়া সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল গোয়া। ৬৩ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল দারুণ সুযোগ পেয়েছিল। মিগুয়েলের সুন্দর ব্যাকহিল ফ্লিক বিপিনকে ডান উইংয়ে ফ্রি করে দিয়েছিল। বিপিন বল পেয়ে দারুণ ক্রস বাড়িয়ে ছিলেন সম্পূর্ণ অরক্ষিত হিরোশিকে। কিন্তু জাপানি তারকার হেডে সেভাবে জোর না থাকায়, তা অনায়াসে গোয়ার গোলরক্ষক হৃতিক তিওয়ারি তালুবন্দি করে ফেলেন। ৬৬ মিনিটে খেলার তাল কিছুটা কাটে। বল দখলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের মিগুয়েল ও গোয়ার বোরহা। যদিও রেফারি কাউকে কার্ড দেখাননি। তবে দ্রাজিক কার্ড দেখে ফেলেন। সময় যতই গড়াতে থাতে ততই খেলা জমে যায়। ৭৪ মিনিটে ডিফেন্স লাইন থেকে মিগুয়েলের চিপ ধরে বিষ্ণু নীচু করে শট মেরেছিলেন, গোলকিপার হৃতিক সেই বল প্রায় গোলে পাঠিয়েই দিচ্ছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গোললাইন সেফ করে বিপন্মুক্ত করেন। এরপর গোয়া পরপর আক্রমণ চালিয়ে যায়। ব্রাইসন-বোরহাদের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। পল মোরেনোর শট দারুণ ভাবে বাঁচিয়ে দেন গিল। ৮৩ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল জোড়া পরিবর্তন করে। চুংনুঙ্গা-হিরোশিকে তুলে ডেভিড ও জয় গুপ্তাকে নামায়। নির্ধারিত সময়ের পর রেফারি ৩ মিনিট ইনজুরি টাইম যোগ করেছিলেন। নির্ধারিত সময়ের কোনও ফল না হওয়ায় খেলা গড়ায় এক্সট্রা টাইমে।

এক্সট্রা টাইম

১০০ মিনিটে ব্রাইসন ও আয়ূষকে তুলে রাবে আর টাভোরাকে নামায় গোয়া। এর দু’মিনিটের ভিতরেই বিপনকে তুলে হামিদকে নামায় ইস্টবেঙ্গল। এক্সটা টাইমের প্রথমার্ধেও কোনও দল গোলের মুখ খুলতে পারেনি। ড্রিংস ব্রেকের পর দ্বিতীয়ার্ধে সাঙ্গওয়ানকে তুলে নেমিলকে নামায় গোয়া। তবে সিভেরিয়ো-দ্রাভিচের লাগাতার আক্রমণ ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু গোলের নীচে জান প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিলেন লাল-হলুদের গিল। দুই দলই গোল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ১১৩ মিনিটে সাউল দুরন্ত দূরপাল্লার শট নিয়ে ছিলেন। কিন্তু হৃতিক তা রুখে দেন। এরপরের মিনিটেই টিমোরের হেডে গোল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আনোয়ার ও গিলের যৌথ প্রচেষ্টায় তেমনটা ঘটেনি। ১১৯ মিনিটে হামিদের হেডও বারপোস্টের উপর দিয়ে উড়ে যায়। আর সেখানেই শেষ হয়ে যায় এক্সট্রা টাইম। ১২০ মিনিটেও দুই দলকে আলাদা করা না যাওয়ায় খেলা গড়ায় সেই টাইব্রেকারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.