খেলার মাঠ মানেই উত্তেজনায় ভরপুর। প্রতি মুহূর্তে জয় এবং পরাজয়ের চিন্তা। আর সে সময়ে নীরব সঙ্গী হয়ে থাকে চিউইংগাম। ভিভ রিচার্ডস, বীরেন্দ্র শেহবাগ, বিরাট কোহলি— নানা প্রজন্মের ক্রিকেট তারকাদের মধ্যে এই অভ্যাস ছিল, রয়েছেও। কিন্তু নিছক অভ্যাস বলে দিলে কম বলা হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে শরীর আর মস্তিষ্কের বৈজ্ঞানিক প্রতিক্রিয়া। কোনও কিছু চিবোনোর ছন্দ শরীরকে আরাম দেয়। মন স্থির হয়, চাপ কমে, মাথা পরিষ্কার থাকে, মনোযোগ দিতে সুবিধা হয়। তাই খেলোয়াড়দের মতো অনেকেই চিউইংগাম চিবোতে ভালবাসেন। তবে এর কারণ সম্পর্কে সকলে অবগত নন। দুবাইয়ের ফিটনেস কোচ গুরজিত কৌর নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো করে চিউইংগাম চিবোনোর উপকারিতার কথা উল্লেখ করেছেন।
চিউইংগাম চিবোলে কী ঘটে শরীরে?
প্রচণ্ড চাপের পরিবেশে কার আচরণ কেমন, তা পরীক্ষা করে একাধিক নিরীক্ষায় গবেষকেরা লক্ষ করেছেন, চিবোনোর ছন্দোবদ্ধ ক্রিয়া ব্যক্তিকে সতর্ক রাখে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে স্নায়ু সক্রিয় হয়। আর তাই ক্রীড়াবিদেরা (অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও) চিবোনোর কাজকে সূক্ষ্ম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। এতে মনোযোগ বাড়ে, মাথাও ঠান্ডা থাকে। তা ছাড়া কোনও কিছু চিবোনোর ক্রিয়া ধীরে ধীরে স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসলের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। ফলে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাশাপাশি, চিবোনোর সময় মুখ আর চোয়াল একনাগাড়ে নড়াচড়া করে বলে রক্তসঞ্চালন উন্নত হয়। ফলে মস্তিষ্কে বেশি অক্সিজেন পৌঁছায়। মনোযোগ বৃদ্ধি পাওয়ার নেপথ্যে যা বেশ কার্যকরী। কেবল তা-ই নয়, স্মরণশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়ে এতে।
রোজের জীবনে কোন কোন পরিস্থিতিতে চিউইংগাম ব্যবহার করতে পারেন?
· কাজের চাপ বাড়লে
· পরীক্ষার সময়ে
· জনসমক্ষে কথা বলার আগে
· দীর্ঘ ক্ষণের যাতায়াত বা একঘেয়ে কাজের সময়ে
· মস্তিষ্ক সক্রিয় না থাকলে
অনেকেই চিউইংগাম এড়িয়ে চলার পক্ষপাতী, কারণ তাতে চিনি থাকে। তার বদলে বাদাম বা ফলের মতো খাবারও একটানা চিবোনো যেতে পারে। তাতেও একই রকম ফল মিলবে। কারণ, উপকারিতার নেপথ্যে রয়েছে চিবোনোর ছন্দ। কী চিবোচ্ছেন, তা জরুরি নয়।

