শুভব্রত মুখার্জি: চলতি টি-২০ বিশ্বকাপ থেকেই নিজেদের অনুশীলনের সময় পাকিস্তান ক্রিকেট টিম তাদের দেশের পতাকাকে সামনে রেখে নিজেদের অনুশীলন করার রীতি চালু করেছে। সদ্য শেষ হওয়া টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গিয়েছিল বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল। তার পরেই তারা আসন্ন সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে পা রেখেছে বাংলাদেশে। আর সেখানেই তাদের দেশের পতাকা মাঠে রেখে অনুশীলনের রীতি নিয়ে জোরদার বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বাংলাদেশের জনগনের একাংশের তরফে দাবি জানানো হয়েছে হয় এই ঘটনার জন্য পাকিস্তান দল ক্ষমা চাক না হলে দেশ ছাড়ুক।
ইতিহাস বইয়ের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে ১৯৭১ সালে বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের মিরপুরে নিরীহ বাঙালিদের উপর গণহত্যায় মেতেছিল তৎকালীন পাক হানাদাররা। সেই মিরপুরে ফের উড়েছে পাকিস্তানের পতাকা এবং যার পিছনে নেই কোন যৌক্তিক কারণ। যার ফলেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির মনে করেন, এই ঘটনা পাকিস্তানিদের ঔদ্ধত্যের বহিঃ প্রকাশ।ট্রেন্ডিং স্টোরিজ
তবে তিনি এখানেই থামছেন না পাকিস্তানের এই ঔদ্ধত্যের জন্য বাংলাদেশের মানুষের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে বলে তাঁর দাবি। এর পরবর্তীতে তার বক্তব্যের ঝাঁঝ আরও বেশি। তিনি এক কদম এগিয়ে বলেছেন ক্ষমা না চাইলে পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের বাংলাদেশে খেলার কোন দরকার নেই।
ফলে বিশ্বকাপের রীতি ধরে রেখে বাংলাদেশে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে অনুশীলন করাতে সমস্যার মুখে বাববরা। ঘটনাটা অনেক বাংলাদেশি মানুষের সেন্টিমেন্টের বিষয়। বিনা কারণে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা ওড়ানোটাই ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশের মানুষ ভালো ভাবে মেনে নিচ্ছেন না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই বিষয়ে আরও সতর্ক হবে বলে সমর্থকদের একাংশের মত।
উল্লেখ্য আইসিসির নিয়মানুযায়ী কোনও ইভেন্ট কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ চলাকালীন দুই দেশের পতাকা উত্তোলন অবৈধ নয় । তবে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের অনুশীলনে ঘটনা ঘটায় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অনেকের মতে পাকিস্তান দলের ক্রিকেটাররা বিষয়টি খুব সচেতন ভাবেই করেছেন। যার পেছনে অনেকেই ক্রিকেটারদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে বলে অনেকের ধারণা। থাকতে পারে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য। তাদের মতে খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতির কোন জায়গা নেই।