মুখ্যমন্ত্রীর নিষেধকে অগ্রাহ্য করেই বাবুলকে উদ্ধারে ছোটেন রাজ্যপাল

Spread the article

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হেনস্তা কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে। নকশালপন্থীদের হাতে আক্রান্ত তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে বাবুলকে লক্ষ্য গো ব্যাক স্লোগান। প্রায় দেড় ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলে উত্তেজনা। কার্যত কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেওয়াও অভিযোগ। এমনকি চুলের মুটি ধরে মারধর করারও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দিন থেকে রাত গড়িয়ে যায় ঘটনার। পরিস্থিতি এতটাই আয়ত্তের বাইরে চলে যায় যে ঘটনাস্থলে আসতে বাধ্য হন রাজ্যপাল জগদীশ ধনকর।

কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছনোর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন রাজ্যপাল। কিন্তু সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী ব্যস্ত থাকার কারণে ফোনটি ধরতে পারেননি। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই রাজ্যপাল ধনকরকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীকে সমস্ত ঘটনা জানান। একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখার কথা বলেন। সূত্রের খবর, এরপরেই পুরো বিষয়টি দেখার জন্যে কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখার জন্যে নির্দেশ দেন।

এরপরে ফের মুখ্যমন্ত্রীর ফোন যায় রাজ্যপালের কাছে। ফোনে রাজ্যপালকে ঘটনাস্থলে না যাওয়ার কথা বলেন। শুধু একবার নয়, একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী ফোন করে রাজ্যপালকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কার্যত সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেই ঘটনাস্থলে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আটকে থাকা বাবুলকে উদ্ধারে যান রাজ্যপাল।

সূত্রের খবর, এই ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল জগদীশ ধনকর। প্রশাসনিক ভূমিকা থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এরপরেই রাজভবন থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *