যুদ্ধে হেরে সুড়ঙ্গ থেকে পিলপিল করে বেরিয়ে এল আইএস জেহাদিরা

পূর্ব সিরিয়ায় আইএস বা ইসলামিক স্টেটের খলিফাতন্ত্রের শেষ ঘাঁটির পতনের পর রবিবার বেশ কিছু জেহাদি আত্মসমর্পণ করেছে। যদিও সিরিয়ায় কুর্দদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, তথাকথিত ‘ইসলামিক স্টেট’–এর পতন ঘটলেও তাঁরা যে অসংখ্য বিদেশি জেহাদিদের আটক করেছে তারা টাইম বোমা’র মতোই বিপজ্জনক যাদের দ্রুত নিষ্ক্রিয় করা প্রয়োজন।

কুর্দ মুখপাত্র জিকার আমেদ জানিয়েছেন ‘সুড়ঙ্গের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকা আইএস যোদ্ধারা আজ আত্মসমর্পণ করেছে।’ ইরাক সীমান্তের প্রত্যন্ত গ্রাম বাঘোজে বিধ্বস্ত জেহাদি শিবির থেকে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে বেরিয়ে আসা একাধিক জেহাদিকে সারবদ্ধ ভাবে ট্রাকে উঠতে দেখা গিয়েছে। শেষ ঘাঁটি থেকে বেরিয়ে আসা গাঢ় রঙের কাফতান পরিহিত জেহাদিদের মুখে ঘন দাড়ি ও ডোরাকাটা কাপড়ে মাথা ঢাকা ছিল। ওই শিবিরের মধ্যে এখনও বেশ কিছু জেহাদি থাকার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন আমেদ।

শনিবার মার্কিন–কুর্দ যৌথ সেনা আক্রমণে পূর্ব সিরিয়ায় কুর্দদের অঞ্চল দখল করে রাখা ইসলামিক স্টেটের শেষ ঘাঁটির পতনের খবরে খুব স্বাভাবিক ভাবেই উল্লসিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ। যদিও আংশিক স্বশাসিত কুর্দ সরকারের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আইএস–এর বিরুদ্ধে চালানো অভিযানের সময় আটক হওয়া জেহাদিরা যথেষ্ট বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র আবদেল করিম ওমর বলেন, ‘৫৪টি দেশ থেকে আগত যোদ্ধা, শিশু ও নারীরা আমাদের কাছে এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে যারা আমাদের ও গোটা বিশ্বের কাছেই যথেষ্ট বিপজ্জনক। বাঘোজ অভিযানের পর এই বন্দিদের সংখ্যা গত কুড়ি দিনে উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

ইতিমধ্যেই বহু জেহাদি পালিয়েছে, যারা পালাতে পারেনি তারা আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানান ওমর। আইএস–এর শেষ চিহ্ণটুকু মুছে দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে জানিয়ে আবদেল করিম ওমর আপাত নিষ্ক্রিয় আইএস–এর গুপ্ত সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে সারা বিশ্বের মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেন। আন্তর্জাতিক ভাবে বর্তমান সমস্যাটি মোকাবিলা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে সবথেকে আশঙ্কার কারণ হল, বহু শিশু আইএস খলিফাতন্ত্রের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠেছে যারা ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদী হয়ে উঠতে পারে।

প্রসঙ্গত নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনে সমগ্র বিশ্বকে শিহরিত করে দেওয়া ইসলামিক স্টেটের ক্রমাগত প্রসার আটকাতে ২০১৪ সালে আমেরিকার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সেনাবাহিনী বিমান হানা শুরু করে। বিগত চার বছর পর গত শনিবার সরকারি ভাবে ইসলামিক স্টেটের পতনের খবর ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.