“আমার তো মনে হয় বাংলায় পুরো ৭৮ হাজার বুথই স্পর্শকাতর। কারণ বিরোধীদের এখানে মনোনয়ন করতে দেওয়া হয় না। ভোট করতে দেয়না তৃণমূল কংগ্রেস।” এমনই অভিযোগ রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের৷

তাঁর আরও অভিযোগ “এই রাজ্যে ৪২ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার যেখানে ভোট দিতে পারে না, ৩৪ শতাংশেরও বেশি কেন্দ্রে মনোনয়ন করতে দেওয়া হয় না, সেটা কি আর বোঝাতে হবে? তাহলে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র কোথায়? বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র ভারতবর্ষ। আর তার একটি বড় রাজ্য এই পশ্চিমবঙ্গ। সেখানে ভোট করতে দেওয়া হয় না। বিরোধীদের সভা করতে দেওয়া হয় না।”

বৃহস্পতিবার রামনগরের কাঁথি লোকসভা আসনের ‘শক্তিকেন্দ্র’ শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। রামনগর-২ ব্লকের চাউলখোলাতে ওই সভা হয়। সেখানে কাঁথি লোকসভার দলীয় কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠক করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

এ দিন ওই বৈঠকে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হলেও কর্মী-সমর্থকদের আশা ছিল কোনও ভাবে জানা যেতে পারে কাঁথি লোকসভা আসনের পরিকল্পিত নাম। কিন্তু, কার্যত কর্মীদের সেই আশায় জল ঢাললেন বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি। তিনি জানান, মোট ৫৪৩ আসনে ধাপে ধাপে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এখন কেন্দ্রীয় স্তরে তার প্রস্তুতি চলছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। সময় হলেই আপনারা জানতে পারবেন।

এ দিকে, লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল-সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতানেত্রীরা ‘পা’ বাড়িয়ে দিয়েছেন পদ্ম শিবিরে৷ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “বিজেপি সারা ভারতবর্ষে বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গেও বেড়েছে। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে মোদীজির নেতৃত্বে সরকার হবে। নরেন্দ্র মোদী ‘প্রধানমন্ত্রী’ হবেন-এটা সবাই বুঝে গেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে বিজেপি বিস্তার লাভ করেছে এবং ভালো ফল করবে। আগামীদিনে বাংলার ভবিষ্যৎ বিজেপির হাতে আছে। তাই বহু পার্টি থেকে বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। কেউ এসে গেছেন, আবার কেউ আসবেন। তার মধ্যে কেউ কখন যোগ দিচ্ছেন, সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। বিজেপিতে যোগ দিলেই জানা যাবে। যারা রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত তারা এলেই দলের লাভ হবে।”

সাম্প্রতিক ভোটের প্রাক মুহূর্তে দল পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারতবর্ষের রাজনীতির এটা একটা অঙ্গ। এই লোকসভা ভোটে জেতার সম্ভাবনা বেড়েছে বলেই সবাই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। যে দলে যত রাজনীতির লোক থাকবে সেই দল তত সফল হবে।”

দিলীপ ঘোষের দাবি, আমরা চাই রাজ্যের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে অবাধ ভোট করা হোক। আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। সভার জন্য কাঁথি-সহ শহরতলিতে বিজেপিকে ‘হুলিয়া’ জারি করেছে তৃণমূল। সাংবাদিকদের দিলীপ বলেন, “আমরা আমাদের কাজ করছি। যারা ভয় পাচ্ছে তারা এসব করে বেড়াচ্ছে। ‘দিদিমণি’ আবার ভাল ভাল ভাষণ দিচ্ছেন। আমার মনে হয় এর জন্য যোগ্য উত্তর দেওয়ার জায়গা হচ্ছে উনিশে’র লোকসভা নির্বাচন। সেখানে সব হিসেব মিটে যাবে।”

দিলীপ বলেন, “বাংলার সাংবাদিকরা আমাদের পাশে রয়েছেন। কিন্তু বাংলার সংবাদমাধ্যম আমাদের সঙ্গে নেই। সংবাদমাধ্যম দিদি’র সঙ্গে রয়েছে। দিদি সংবাদমাধ্যমকে যেভাবে কান ধরে ওঠবস করাচ্ছেন সেটা আমরা বলেছি ঠিক নয়।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সায়ন্তন বসু, কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি তপন মাইতি, জেলা বিজেপির মিডিয়া সেলের কো-অর্ডিনেটর নবীন প্রধান-সহ বিজেপির সমস্ত স্তরের নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.