মাসে ৫০০০ টাকা জমিয়েই কোটিপতি হওয়া যায়, জানুন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের খুঁটিনাটি

মাসে জমাতে হবে ৫০০০ টাকা। আর সেটা নিয়মিত চালিয়ে গেলে কোটিপতি হওয়া সম্ভব। কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (এনপিএস)-এর সুবিধাও সম্প্রতি বাড়িয়েছে কেন্দ্র।

যাঁরা শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা রাখতে ভয় পান তাঁদের জন্য এই সরকারি প্রকল্প অনেকটাই সুবিধার। এর টাকা বাড়বেই। কিন্তু আসল কমে যাওয়ার কোনও ভয় নেই। ইকিউটি বিনিয়োগের মতো বাজার দরের ওঠানামার ভয় নেই। এটা ঠিক যে দ্রুত অর্থ বৃদ্ধির জন্য ইকিউটিতে বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে তাতে ঝুঁকি থাকে।

১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের যে কেউই এই প্রকল্পের সুযোগ নিতে পারেন। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকাও বিনিয়োগ করা যায়। মাঝপথে টাকা জমানো বন্ধ হয়ে গেলেও কোনও সমস্যা নেই। মাঝপথে টাকা তোলাও যায়। নতুন নিয়মে ৪০ শতাংশ টাকার উপরে কোনও আয়কর দিতেও হবে না। আগে যেটা ছিল ২০ শতাংশ।

কিন্তু কী ভাবে কোটিপতি হওয়া যায়? সরকারি হিসেব বলছে এনপিএস ৮ থেকে ১৪ শতাংশ হারে সুদ দেয়। আর সেটা ধরে কেউ ২৫ বছর বয়সে মাসে ৫ হাজার টাকা করে জমাতে শুরু করলে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত ৩৫ বছরে জমবে ২১ লাখ টাকা। চক্রবৃদ্ধি হারে এর উপরে এই ৩৫ বছরে সুদ মিলবে ১.২৪ কোটি টাকা। সব মিলেয়ে অঙ্কটা দাঁড়াবে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি জানান, এখন থেকে জাতীয় পেনশন স্কিমে সরকারের তরফে ১৪ শতাংশ অনুদান বাড়ানো হবে। এই প্রকল্পে এতদিন ১০ শতাংশ অনুদান দিত কেন্দ্র। অনুদান বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় পেনশন সিস্টেমে টাকা তোলার ক্ষেত্রেও বড় ছাড় মিলবে। এখন গোটা মূলধনের ৬০ শতাংশ টাকা তুলে নিলেও কোনও কর দিতে হবে না। লাগবে না টাকা তোলার জরিমানাও।

ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস-এর গুরুত্ব বাড়াতে ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের বাজেটে একগুচ্ছ প্রস্তাব আনেন জেটলি। ২০১৭ সালেই এনপিএস-এ লগ্নির উপরে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় ঘোষণা করে কেন্দ্র। এখন আবার, মোট টাকার ৬০ শতাংশ তুলে দেওয়ার ছাড় মিলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এনপিএস-এ লগ্নি করার জন্য করদাতা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কর আইনের ৮০সি ধারায় নির্ধারিত ১.৫ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত ছাড় দাবি করতে পারেন।

সর্বশেষ নিয়ম ছিল, প্রকল্প থেকে একেবারে বেরিয়ে না গেলে অথবা বয়স ৬০ বছর না হওয়া অবধি লগ্নিকারী তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে একটি টাকাও তুলতে পারতেন না। লগ্নিকারীর বয়স ৬০ বছর হলে অথবা লগ্নিকারী প্রকল্প থেকে একেবারে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, মোট জমার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত তোলা যেত। বাকি ৬০ শতাংশ দিয়ে পেনশন নিয়ামক সংস্থা পিএফআরডিএ নির্ধারিত কয়েকটি বিমা সংস্থার থেকে পেনশন কেনা আবশ্যিক ছিল। সেই বিধিনিষেধও এখন শিথিল করেছে কেন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.